
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি : খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামীকে হত্যা, তারপর রান্নাঘরে লাশ মাটিতে পুঁতে সেখানেই ২ মাস ১৪ দিন রান্না চালিয়ে গেছেন স্ত্রী। লোমহর্ষক এ ঘটনা ঘটেছে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পূর্ব শীলমন্দি এলাকায়। এই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সন্দেহভাজন আকলিমা আক্তার ও রিয়াজ নামে একজনকে। নিহত আরাফাত মোল্লার মাটিচাপা দেহাবশেষও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আরাফাতের লাশ উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার পুলিশ। এর আগে এদিন বেলা ১১টায় আকলিমাকে আটক করা হয়। আরাফাত পূর্ব শীলমন্দি এলাকার দুখাই মোল্লার ছেলে। ২২ বছর আগে আকলিমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।আকলিমা-আরাফাত দম্পতির চারটি সন্তান রয়েছে। তাদের বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট এক মেয়ে ও দুই ছেলে বাড়িতেই থাকে। এদের মধ্যে দুইজন শিশু ও একজন কিশোর।
সদর থানার পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ১৫ মে আরাফাতের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য জানিয়ে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন আকলিমা। এতে তিনি উল্লেখ করেন, ২ মে আরাফাত আর বাড়ি ফেরেননি।
ঘটনার ১৫ দিন পর আকলিমা থানায় আরেকটি অভিযোগ জমা দেন। এতে তিনি বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় মোবাইল নম্বর থেকে তার স্বামীর মেজো ভাইয়ের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছে। এরপর পুলিশ ঘটনাটি মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করে তদন্তে নামে।
পরে আরাফাতের কল লিস্ট ঘেঁটে তারা জানতে পারে, নিখোঁজের (জিডি অনুসারে) দিন আরাফাতের ফোন বাসাতেই ছিল। তখন পুলিশ আকলিমাকে সন্দেহ করে। আর তাকে ফাঁদে ফেলতে একজনকে কাজে লাগায়। ওই ব্যক্তি আকলিমারই প্রতিবেশী।
তদন্তের একপর্যায়ে শুক্রবার সকালে আকলিমার সঙ্গে ওই ব্যক্তির কথোপকথনের একটি ভিডিও রেকর্ড পুলিশের হাতে আসে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আরাফাতকে হত্যা করে রান্নাঘরে পুঁতে রাখার বিষয়টি বলছেন আকলিমা।
এরপর পুলিশ গিয়ে আকলিমাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তার স্বামীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। এ কারণে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে হত্যা করে রান্নাঘরে পুঁতে রেখেছেন। পুলিশ সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাটি খুঁড়ে আরাফাতের দেহাবশেষ উদ্ধার করে।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জানতে পারি, আকলিমাই তার স্বামীকে হত্যা করেছেন। এ জন্য আকলিমা ও রিয়াজ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়েছে।’ রিয়াজের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ- জানতে চাইলে ওসি জানান, আকলিমা তাদের বলেছেন, হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দিতে সহযোগিতা করেন রিয়াজ।